প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
ফেনীতে এইচএসিতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেনীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি, আলিম ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ফেনী থেকে অংশ নেবে ১১ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় গত এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪৫৫ জন। পরীক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, কারিগরি শিক্ষায় ঝোঁক, প্রবাসী পরিবারে সন্তানদের স্থানান্তর এবং বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক কারণে এই ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেনীতে এইচএসসি, আলিম ও কারিগরিতে পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ জন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৭৯ জনে। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে তা কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৪৮৭ জনে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি, আলিম ও সমমানে ফেনীর ২১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এইচএসসিতে ১১ কেন্দ্রে ৮ হাজার ৬৫৭ জন, আলিমে ৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৬১৮ জন এবং কারিগরিতে ৩টি কেন্দ্রে ৭৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেনীর সদর উপজেলায় এইচএসসিতে ৪টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৩৭০ জন, আলিমে ১টি কেন্দ্রে ৬১৮ জন ও ভোকেশনালে ১টি কেন্দ্রে ২৭১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। পরশুরাম উপজেলায় এইচএসসিতে ১টি কেন্দ্রে ৬১৮ জন, আলিমে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। ফুলগাজীর ১টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ৫৯৪ জন, আলিমে ৯৫ জন এবং ভোকেশনালে ১১৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ২টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ১ হাজার ১৯৬ জন, ও আলিমে ৩৪১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। সোনাগাজীতে ২টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ৬৫৮ জন, আলিমে ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া দাগনভ‚ঞার ১টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ২১১ জন, আলিমে ২টি কেন্দ্রে ১৯৭ জন এবং ভোকেশনালে ৩৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে গ্রহণে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে আগামী ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ এবং কেন্দ্রের আশপাশে ফটোকপি দোকানগুলো পরীক্ষা চলাকালীন বন্ধ থাকবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজ বেষ্টনীর মধ্যে ১৪৪ ধারা বজায় থাকবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্লাহ বলেন, সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণে পূর্বের সকল নিয়ম বহাল থাকবে। নকল প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরায় মনিটর করা হবে।পরীক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী। দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যায়। নির্বাচনি পরীক্ষা খারাপ হলে অনেকে ফরম পূরণ করার সুযোগ পায় না। মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনেকে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে না।
মানতে হবে যেসব নির্দেশনা, সিসি ক্যামেরায় নজরদারিএইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড। নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কেন্দ্রে প্রবেশ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানদÐ অনুসরণ করতে হবে। পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এলে তার তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগেই ট্রেজারি বা থানার লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের কড়া প্রহরায় কেন্দ্রে নেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত ‘সেট কোড’ পাওয়ার পরই কেবল প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। এর বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। জানা গেছে, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও অ্যানালগ বা কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া কোনো ডিজিটাল ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী