ফেনী    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

‘অতীতের মত কেউ দুর্নীতির সুযোগ পাবে না’



‘অতীতের মত কেউ দুর্নীতির সুযোগ পাবে না’

মুহুরী-কহুয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধানে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এছাড়া স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মুহুরী-কহুয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধানে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে জবাবদিহিমূলক সরকার না থাকায় দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এবার সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অতীতের মতো নয়। এবার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। বিগত দিনের মতো কেউ আর সরকারি অর্থ লুটপাট বা চুরি করার সুযোগ পাবে না।

গতকাল সকালে সফরকালে তিনি পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং প্রস্তাবিত পথসভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরাম ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি মানুষের জানমাল ও কৃষিজমি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অধিকতর সুরক্ষিত হবে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও দ্রুত শুরু করা হবে। টেকসই বাঁধ ও আধুনিক সেচব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী কয়েকশ বছর এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে।

‎‎প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রকল্পের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ও নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি শুধু মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অপরিহার্য নয়, একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত। বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

সফরকালে ‎পরিদর্শনকালে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু), ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম মানিকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


‘অতীতের মত কেউ দুর্নীতির সুযোগ পাবে না’

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মুহুরী-কহুয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধানে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এছাড়া স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মুহুরী-কহুয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধানে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে জবাবদিহিমূলক সরকার না থাকায় দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এবার সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অতীতের মতো নয়। এবার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। বিগত দিনের মতো কেউ আর সরকারি অর্থ লুটপাট বা চুরি করার সুযোগ পাবে না।

গতকাল সকালে সফরকালে তিনি পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং প্রস্তাবিত পথসভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরাম ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি মানুষের জানমাল ও কৃষিজমি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অধিকতর সুরক্ষিত হবে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও দ্রুত শুরু করা হবে। টেকসই বাঁধ ও আধুনিক সেচব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী কয়েকশ বছর এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে।

‎‎প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রকল্পের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ও নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি শুধু মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অপরিহার্য নয়, একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত। বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

সফরকালে ‎পরিদর্শনকালে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু), ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম মানিকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
‘অতীতের মত কেউ দুর্নীতির সুযোগ পাবে না’
0:00 0:00
1.0x