ফেনী    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

মিলেছে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ

সাবেক এমপি রহিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক



সাবেক এমপি রহিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান বিষয়টি জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

একইদিন হাজী রহিম উল্লাহ ছাড়াও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ছয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের মো. রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন রয়েছেন।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার, নঈম নিজাম এবং খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সাত এমপির পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সাবেক মেয়রসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৬টি মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের অঙ্ক ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকা। তার বিরুদ্ধে মামলায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা প্রয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন।

এ ব্যাপারে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. ইদ্রিস দৈনিক ফেনীকে জানান, ইতোপূর্বে এ অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার জন্য দুদকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অনুমোদিত ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এগোবে।

প্রসঙ্গত, হাজী রহিম উল্ল্যাহ ২১ বছর সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফেনী-৩ আসন (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও ভোটকেন্দ্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল ঘোষণার আগমুহূর্তে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

সর্বশেষ গত বছরের ১২ অক্টোবর হাজী রহিম উল্লাহকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা। পরদিন তাকে ফেনী সদর আমলি আদালতে আনা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সাবেক এই এমপিকে ২০২৪ সালে ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


সাবেক এমপি রহিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান বিষয়টি জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

একইদিন হাজী রহিম উল্লাহ ছাড়াও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ছয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের মো. রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন রয়েছেন।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার, নঈম নিজাম এবং খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সাত এমপির পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সাবেক মেয়রসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৬টি মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হাজী রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের অঙ্ক ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকা। তার বিরুদ্ধে মামলায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা প্রয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন।

এ ব্যাপারে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. ইদ্রিস দৈনিক ফেনীকে জানান, ইতোপূর্বে এ অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার জন্য দুদকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অনুমোদিত ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এগোবে।

প্রসঙ্গত, হাজী রহিম উল্ল্যাহ ২১ বছর সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফেনী-৩ আসন (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও ভোটকেন্দ্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল ঘোষণার আগমুহূর্তে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

সর্বশেষ গত বছরের ১২ অক্টোবর হাজী রহিম উল্লাহকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা। পরদিন তাকে ফেনী সদর আমলি আদালতে আনা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সাবেক এই এমপিকে ২০২৪ সালে ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
সাবেক এমপি রহিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
0:00 0:00
1.0x