ফেনী    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা, কাজ বন্ধ

এবার মাসুদ-রতনের বিরোধ তদন্তে বিএনপির কমিটি



এবার মাসুদ-রতনের বিরোধ তদন্তে বিএনপির কমিটি

ফেনীতে সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে দুই মামলা হওয়ার পর এবার তার সঙ্গে ঠিকাদার ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতনের বিরোধ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ চিঠি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেনীতে একটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টিকে ‘কাম্য নয়’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও কফিল উদ্দিন মামুন। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়কের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য-বিবৃতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এর আগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ায় সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন ও এনায়েত উল্যাহ স্বপন। ২০ সেপ্টেম্বর করা মামলা দুটি আমলে নিয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদল ফেনী মডেল থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে রতন বলেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তার দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকার ওই দুটি কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষে কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন রতন।

অন্য মামলার বাদী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের জন্য চাঁদা দাবি ও তাকে মারধরের অভিযোগ করেন। ঠিকাদারি কাজের সিডিউল কেনাকে কেন্দ্র করে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মাসুদ। তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বলেন, এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সেটি তদন্তে তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


এবার মাসুদ-রতনের বিরোধ তদন্তে বিএনপির কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফেনীতে সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে দুই মামলা হওয়ার পর এবার তার সঙ্গে ঠিকাদার ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতনের বিরোধ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ চিঠি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেনীতে একটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টিকে ‘কাম্য নয়’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও কফিল উদ্দিন মামুন। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়কের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য-বিবৃতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এর আগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ায় সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন ও এনায়েত উল্যাহ স্বপন। ২০ সেপ্টেম্বর করা মামলা দুটি আমলে নিয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদল ফেনী মডেল থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে রতন বলেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তার দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকার ওই দুটি কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষে কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন রতন।

অন্য মামলার বাদী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের জন্য চাঁদা দাবি ও তাকে মারধরের অভিযোগ করেন। ঠিকাদারি কাজের সিডিউল কেনাকে কেন্দ্র করে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মাসুদ। তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বলেন, এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সেটি তদন্তে তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
এবার মাসুদ-রতনের বিরোধ তদন্তে বিএনপির কমিটি
0:00 0:00
1.0x