ফুলগাজীতে রাতের বেলা গরু চুরির হিড়িক বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আট দিনের ব্যবধানে তিনটি ঘটনায় ১৪টি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে একই রাতে ৭টি গরু চুরি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাত হলেই আতঙ্ক বেড়েছে গৃহস্থের মাঝে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের পূর্ব দরবারপুর গ্রামের আবদুল ওয়াদুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন গরু ব্যবসায়ী আবু তাহেরের বাড়ি থেকে সাতটি গরু চুরি হয়। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর গোসাইপুরে একটি এবং ১৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব ঘনিয়ামোড়া এলাকায় তিনটি বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় কৃষক, গৃহস্থ ও গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
আবু তাহেরের ছেলে তারেক জানান, চুরি যাওয়া সাতটি গরুর মধ্যে চারটি ষাঁড়, একটি গাভী, একটি বাছুর ও একটি আবাল ছিল। গরুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। পরিবারের সদস্য গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঋণ করে গরু কিনে ব্যবসা করতেন তাঁরা। গরু বিক্রির অর্থে সংসারের খরচ চলত। একসঙ্গে সাতটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
পরিবারের সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, রাতে গরু চুরির বিষয়টি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে চোরদের ব্যবহৃত কভার্ডভ্যানের পিছু নেন তিনি। ধাওয়া করতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হলেও বন্দুয়া ব্রিজ পর্যন্ত তাদের অনুসরণ করেন। পরে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কে টহলরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। চোরেরা কোন পথে গরুগুলো নিয়ে গেছে, তা শনাক্তে বিভিন্ন সড়কের ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গরু উদ্ধারে বিভিন্ন কসাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া ঢাকায় সরকারি কাজে থাকায় মুঠোফোনে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ কার্যক্রম চলছে।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি হয়। গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। আর ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব ঘনিয়ামোড়া এলাকায় মো. হানিফ মজুমদারের বাড়ি থেকে দুটি, আবু তাহেরের গোয়ালঘর থেকে তিনটি এবং মো. সিরাজুল হক মজুমদার ওরফে সুরুজ মিয়ার বাড়ি থেকে একটি শাহীওয়াল বাছুর চুরি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চোরেরা বাড়ির লোকজনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে গোয়ালঘরের তালা কেটে গরুগুলো নিয়ে যায়। পরে সড়কের পাশে একটি গাড়িতে করে গরুগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গরু চুরির পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির মোটর, টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, টমটম ও অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব চুরির সঙ্গে মাদক বা চোরাচালানের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
একের পর এক চুরির ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রাতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চুরি যাওয়া গরু দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।