তিন দিন আগে ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছিলেন আবদুল হালিম (২৯)। স্ত্রী ও নবজাতক সন্তান এখনো হাসপাতালে। এর মধ্যেই গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়ার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে আনতে না পারা ও আর্থিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন হালিম।
আবদুল হালিম ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও হালিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুল হালিমের তিন বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তিন দিন আগে তার স্ত্রী ছাগলনাইয়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতক ও স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে রোববার রাতে বাড়িতে ফেরেন হালিম। সোমবার সকালে হালিমের বাবা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে শয়নকক্ষে খোঁজ করেন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দমদমার ওপর দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে ছেলেকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই আবদুর রউফ বলেন, আমার ভাই স্ত্রী-সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে আর্থিক সংকটে ছিলেন। এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তার এমন মৃত্যু কেউ মানতে পারছে না।
ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হালিমকে তার শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের দৈনিক ফেনীকে বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনতে না পারাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানা গেছে। এসব কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।