ফেনী সদরের ধলিয়ায় সরকারি উন্নয়ন কাজে চাঁদাদাবির অভিযোগে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। ফেনী আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন এবং সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ঠিকাদার এনায়েত উল্যাহ স্বপন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
পরে আদালতের বিচারক কাজী মো. আবু জাহের বাদল মামলা দুটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সাজেদ কামাল জানান, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আদালত থেকে আদেশের কপি থানায় পৌঁছায়নি। আদেশ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আতিক উল্লাহ জানান, আদালত দুটি মামলা এফআইআর করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়, যার কারণে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় দুটি সড়কের নির্মাণকাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান রতন। শনিবার দুপুরে ওই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুটি সড়কের প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদী জানান, সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চরহুজুরী সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার পর কামরুল হাসান মাসুদ ও তার সহযোগীরা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে অপর মামলার বাদী স্বপন হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদারি কাজের জন্য তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
স্বপনের অভিযোগ, গত বছর ঠিকাদারি কাজের সিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গেও মাসুদের বাকবিতণ্ডা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রকৌশলীকে গালাগাল, মারধরের চেষ্টা ও হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সেটি তদন্তের জন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও ঠিকাদারি ও উন্নয়নকাজ ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফেনী পৌরসভার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
সর্বশেষ, ফেনী পৌরসভার প্রায় ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) কাছেও চাঁদাদাবির ঘটনায় মাসুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল।