দাগনভূঞা একাডেমির হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন নিবিড়ের পড়াশোনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ইসমাইলকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে তা জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে তিনি এ ব্যাপারে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলামকে খোঁজখবর নিতে বলেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বইপত্র, ড্রেস, কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করে দেন জেলা প্রশাসক। গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র সহযোগিতায় ফেনী সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পেরেছে সে।
জানা গেছে, ইসমাইলের পিতা মো. সুজন একজন ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা। তার পক্ষে ৪ সদস্যের পরিবারের খরচ চালানো কষ্টসাধ্য। ইসমাইল এবার এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫ অর্জন করে। তবে কাক্সিক্ষত ফল অর্জনের পরও স্বস্তি ছিল না। কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাক ও যাতায়াতের খরচ কীভাবে জোগাড় হবে- তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল মেধাবী এই শিক্ষার্থীর। ইসমাইলের আরেক ভাই দাগনভূঞা একাডেমিতে পড়ে। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হাট ভোগদিয়া এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন যাবত দাগনভূঞা পৌর শহরের বেতুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
শিক্ষার্থী ইসমাইল বলে, আমার এ পর্যন্ত আসার পথটা সহজ ছিল না। অভাবের সংসারে বাবা-মায়ের পক্ষে আমার পড়ালেখার খরচ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। একটা সময়ে টাকার অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ায় উপক্রম হয়েছিল। আমার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আমি সুযোগ পেলে বাবার কাজে সহযোগিতা করতাম। রোজগারের চেষ্টা করতাম। এভাবেই আমি চালিয়ে যাই পড়ালেখা। বাবা-মা ও স্যাররা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমার স্বপ্ন আমি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই এবং ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই।
ইসমাইলের পিতা মো. সুজন আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, আমার ছেলে কঠোর পরিশ্রম করে জিপিএ ৫ পেয়েছে। আমার অনেক আনন্দিত। আমি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের কাছে আজীবন ঋণী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তারা দুই ভাই দাগনভূঞা একাডেমিতে পড়াশোনা করে। দুজনেই মেধাবী। পড়াশুনার পাশাপাশি এই শিক্ষার্থী তার বাবাকে ব্যবসায় ও সহযোগিতা করে। অত্যন্ত কষ্ট করে ইসমাইল এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। তাকে সহযোগিতা করতে দাগনভূঞা একাডেমি সিরাজুম মুনিরা সোসাইটি প্রতি মাসে ৩০০ টাকা বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সামান্য হলেও তার পড়াশোনার গতিকে ত্বরান্বিত করবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যার আন্তরিকভাবে দেখেছেন। তাঁর ঐকান্তিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন নিবির কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখব।