ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র ২০ দিনে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৫৪০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবে ৫ জন শনাক্ত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১৪৫ জন। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই শনাক্ত হয়েছে ২৯৪ জন।
জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। মোট ৫৪০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৯৪ জনই এই উপজেলার, যা মোট শনাক্তের প্রায় ৭৩ শতাংশ। কেবল চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই সদরে ২৪১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে দাগনভূঞায় ৪৫, সোনাগাজীতে ৪৩, ছাগলনাইয়ায় ২৬, পরশুরামে ১৭ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩৮৬ রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫৮ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪ জন, সোনাগাজীতে ২ জন এবং পরশুরামে ২ জন ভর্তি রয়েছেন।
ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি সত্যিই চিন্তার বিষয়। আগে ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর কথা শুনতাম, এখন জেলা শহর থেকে গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। মশক নিধনে প্রশাসনের সমন্বিত ও জোরদার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রোকন উদ দ্দৌলা জানান, এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর ব্যাপক ভিড়, তার ওপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসময় সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৭ হাজার ৪৬৮টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৫ হাজার ১১৯টি, পরশুরামে ৩৬১টি, সোনাগাজীতে ১১৮টি, ফুলগাজীতে ৭২টি, দাগনভূঞায় ১৮টি এবং ছাগলনাইয়ায় ১৪টি কিট রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ির চারপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে মশা নিধনে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।