ফেনী    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে ভোক্তা



বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে ভোক্তা

ফুলগাজীর মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারিতে তৈরি খোলা পাউরুটি, বনরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন কনফেকশনারি পণ্য। কিছুক্ষেত্রে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কমানো হয়েছে পণ্যের ওজন ও আকার। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে নতুন করে বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে হচ্ছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানিসহ বেকারি পণ্য তৈরির বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কোথাও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে, আবার কোথাও আগের দাম বহাল রেখে ওজন ও আকার কমানো হয়েছে।

সম্প্রতি ফুলগাজী যাত্রী ছাউনি, মুহুরি নদীর পাড়, মুন্সীরহাটের কমুয়া রোড, আমজাদহাট, জিএমহাট ও আনন্দপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় বনরুটির আকার ছোট হয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, পাঁচ টাকার বনরুটি নামমাত্র একই দামে বিক্রি হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর আকার আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। পাশাপাশি কেক, পাউরুটি ও খোলা বিস্কুটের দামও বেড়েছে। কোনো কোনো দোকানে ৫০ টাকার পাউরুটি ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পণ্যের ধরন, আকার ও ওজনভেদে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বেকারি মালিকদের সমিতির সিদ্ধান্ত এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই ধরনের পণ্যের দাম দোকানভেদে ভিন্ন।

ক্রেতারা জানান, আকার ও ওজনের হিসাবে পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দাম না বাড়িয়ে ওজন কমিয়ে আগের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

হঠাৎ বেকারি পণ্যের দাম ও আকারে পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীদের ওপর। তাদের অনেকের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় চা, বনরুটি, বিস্কুট বা পাউরুটি নিয়মিত থাকায় বাড়তি খরচ তাদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে।

ফুলগাজী থানা রোডের একটি চায়ের দোকানে রহিম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুষ্টিকর খাবার আমাদের ভাগ্যে জোটে না। খিদের জ্বালা মেটাতে চা ও বনরুটিই ভরসা। কিন্তু এখন চায়ের দাম ৫ টাকা থেকে ১০-১৫ টাকা হয়েছে। বনরুটির দাম পাঁচ টাকা থাকলেও আকার আগের তুলনায় অনেক ছোট।

একই ধরনের অভিযোগ করেন মুন্সীরহাটের টমটমচালক করিম, জিএমহাটের কৃষক চান মিয়া ও আনন্দপুরের সোহাগ। তারা বলেন, সকালে দোকানে নাশতা করে কাজে বের হন। কিন্তু নাশতার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। পরোটা বা তন্দুল রুটির সঙ্গে সবজি খেতে ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এ কারণে অনেক সময় নাশতা না করেই কাজে বের হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণী বলেন, বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। সকালে ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে দাম, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা বললেও ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত বা ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামে কোনো কোনো পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুন্সীরহাটের কাজী বেকারির মালিক কাজী রফিক বলেন, রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। অটোমেশিনে প্রস্তুত করা বেকারি পণ্য যারা বিক্রি করে, তারা পুঁজি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু গ্রামের বেকারিগুলোতে শ্রমিক রেখে পণ্য তৈরি থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা চ্যালেঞ্জের। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজী উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এরই মধ্যে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছে সাধারণ মানুষের সংসার। এর সঙ্গে রুটি, বনরুটি, বিস্কুট ও কেকের মতো সহজলভ্য খাবারের দাম বৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে ভোক্তা

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফুলগাজীর মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারিতে তৈরি খোলা পাউরুটি, বনরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন কনফেকশনারি পণ্য। কিছুক্ষেত্রে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কমানো হয়েছে পণ্যের ওজন ও আকার। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে নতুন করে বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে হচ্ছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানিসহ বেকারি পণ্য তৈরির বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কোথাও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে, আবার কোথাও আগের দাম বহাল রেখে ওজন ও আকার কমানো হয়েছে।

সম্প্রতি ফুলগাজী যাত্রী ছাউনি, মুহুরি নদীর পাড়, মুন্সীরহাটের কমুয়া রোড, আমজাদহাট, জিএমহাট ও আনন্দপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় বনরুটির আকার ছোট হয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, পাঁচ টাকার বনরুটি নামমাত্র একই দামে বিক্রি হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর আকার আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। পাশাপাশি কেক, পাউরুটি ও খোলা বিস্কুটের দামও বেড়েছে। কোনো কোনো দোকানে ৫০ টাকার পাউরুটি ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পণ্যের ধরন, আকার ও ওজনভেদে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বেকারি মালিকদের সমিতির সিদ্ধান্ত এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই ধরনের পণ্যের দাম দোকানভেদে ভিন্ন।

ক্রেতারা জানান, আকার ও ওজনের হিসাবে পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দাম না বাড়িয়ে ওজন কমিয়ে আগের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

হঠাৎ বেকারি পণ্যের দাম ও আকারে পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীদের ওপর। তাদের অনেকের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় চা, বনরুটি, বিস্কুট বা পাউরুটি নিয়মিত থাকায় বাড়তি খরচ তাদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে।

ফুলগাজী থানা রোডের একটি চায়ের দোকানে রহিম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুষ্টিকর খাবার আমাদের ভাগ্যে জোটে না। খিদের জ্বালা মেটাতে চা ও বনরুটিই ভরসা। কিন্তু এখন চায়ের দাম ৫ টাকা থেকে ১০-১৫ টাকা হয়েছে। বনরুটির দাম পাঁচ টাকা থাকলেও আকার আগের তুলনায় অনেক ছোট।

একই ধরনের অভিযোগ করেন মুন্সীরহাটের টমটমচালক করিম, জিএমহাটের কৃষক চান মিয়া ও আনন্দপুরের সোহাগ। তারা বলেন, সকালে দোকানে নাশতা করে কাজে বের হন। কিন্তু নাশতার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। পরোটা বা তন্দুল রুটির সঙ্গে সবজি খেতে ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এ কারণে অনেক সময় নাশতা না করেই কাজে বের হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণী বলেন, বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। সকালে ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে দাম, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা বললেও ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত বা ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামে কোনো কোনো পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুন্সীরহাটের কাজী বেকারির মালিক কাজী রফিক বলেন, রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। অটোমেশিনে প্রস্তুত করা বেকারি পণ্য যারা বিক্রি করে, তারা পুঁজি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু গ্রামের বেকারিগুলোতে শ্রমিক রেখে পণ্য তৈরি থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা চ্যালেঞ্জের। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজী উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এরই মধ্যে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছে সাধারণ মানুষের সংসার। এর সঙ্গে রুটি, বনরুটি, বিস্কুট ও কেকের মতো সহজলভ্য খাবারের দাম বৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে ভোক্তা
0:00 0:00
1.0x