তবুও স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা


বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধিতে জনসচেতনতা বাড়লেও এখনও কাম্য পর্যায়ে আসেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে শপিং মল খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি অবহেলিত হচ্ছে বলে দৈনিক ফেনীর পর্যবেক্ষণে চিহ্নিত হয়েছে। অথচ জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। সরকারি ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

দান-অনুদান-প্রণোদনার পাশাপাশি জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর হয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা তথ্য অফিস জনসচেতনতায় প্রচারাভিযান, চলচ্চিত্র প্রদর্শণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। এতকিছুর পরও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কেউ কেউ খেয়ালি মন্তব্য করছেন। গতকাল বুধবার (৫ মে) দুপুরে শহরের খেজুর চত্ত্বরের সামনে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কনস্টেবলের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না স্বল্প শিক্ষিত ও শ্রমিক শ্রেণির লোকেরা। অনেক ব্যবসায়ীও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তিনি বলেন, সিএনজি, রিকশা করে যাওয়া অনেক যাত্রীদের মুখে মাস্ক দেখা যায় না। আমরা বলার চেষ্টা করি সবাইকে মাস্ক পড়ার জন্য। কতজনকে বলা যায়।

তবে জনসচেতনতা সন্তোষজনক না হলেও পূর্বের তুলনায় ধীর গতিতে বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। ফেনীতে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস-সালেহীন বলেন, পূর্বের তুলনায় দেশে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে।

জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতো জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখা সূত্র জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ৯০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজজামান বলেন, এরই মধ্যে সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকালে মাস্কও বিতরণ চলছে। তিনি বলেন, জনগণকে নিজেকে রক্ষায় সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ঘর থেকে বের হতেই মাস্ক পরতে হবে। যিনি গণপরিবহন চালান তাকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। শপিং মল এবং শহরের ভেতর গণপরিবহন চালককে অধিক সতর্ক থাকতে হবে। এখানে অধিক সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনী জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল রাব্বী মনির জানান, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রথম থেকেই সচেতনতায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিদিন শহর, শহরতলী, গ্রাম, হাট-বাজারে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা যাচ্ছে। কর্মকাণ্ডের মধ্যে সড়ক প্রচার (মাইকিং), চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, লিফলেট বিতরণ, ফেস্টুন স্থাপন, উঠান বৈঠক, ক্ষুদ্র সমাবেশ উল্লেখযোগ্য।


স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভ্রাম্যমাণ আদালত
ফেনী জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জেলা জুড়ে জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ৯০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ৬০১টি মামলা ও ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। দৈনিক ফেনীতে প্রকাশিত একটি সংবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখা সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, গতবছরের মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে ৩৯২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১ হাজার ৫৭৫টি মামলা এবং সমপরিমাণ ব্যক্তিকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


অব্যাহত প্রচারণা করছে জেলা তথ্য অফিস
ফেনী জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল রাব্বী মনির জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানতে গত দুই মাসে ৪০টি সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ১১ টি উঠান বৈঠক, ১৫ টি ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ, জনবহুল স্থানে ৫৬টি ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে ৷ এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে সড়ক প্রচার বা মাইকিং কার্যক্রম করছে। তিনি জানান, প্রত্যেকটি উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বাস্থ্যবার্তা সংবলিত ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করেছে। যেখানে করোনা আক্রান্তের লক্ষণ, প্রতিকার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছে।

এর আগে গতবছর জেলা তথ্য অফিস জনসচেতনতা বাড়াতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৯টি উঠান বৈঠক, ৩টি মহিলা সমাবেশ, ৩৬ টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ১৩৫দিন মাইকিং করেছে। তথ্যগুলো গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তথ্য অফিসের বরাত দিয়ে দৈনিক ফেনীতে প্রকাশিত হয়।

মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন

    কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় নি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।