পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশংকা প্রকাশ করেছেন ফেনী সদরের শর্শদি ইউনিয়নের মোঃ কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি।  আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ নিয়ে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ঢাকায় বসবাসরত শর্শদির দক্ষিণ আবুপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ির এ ব্যক্তি লিখিত বক্তব্যে জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে বোন হাজেরা বেগমের মৃতদেহ সৎকারে গ্রামে এলে পরিবারের আরও সদস্যসহ বেধড়ক পিটুনির শিকার হন। এসময় করোনা মৃত গুজব রটিয়ে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ফেনীর সুলতানপুরে পৌর কবরস্থানে মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়।

বসত ভিটা, জমি দখল, হামলা ও হুমকির জন্য মোঃ কামাল উদ্দিন অভিযোগ তুলেন একই গ্রামের আবদুল জলিল ও তার ছেলে মেজবাহ উদ্দিন সম্রাট, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা নুর হোসেন সোহাগ, আবু আহাম্মদ, আনোয়ার উল্যাহ ও তার ছেলে ঢাকায় পুলিশ বিভাগে কর্মরত আবু সাইদ রাহাত এতসব ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, উল্লেখিত আবদুল জলিল, আনোয়ার উল্যাহ, আবু আহাম্মদ ১২০ শতক পৈত্রিক জমি ভোগ দখল করছে। ইতোমধ্যে ২৪ শতক জমির মালিকানা প্রশ্নে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, সম্পত্তি থাকলেও নিজের পৈত্রিক ভিটায় একদিনের জন্যও থাকতে পারেন না প্রাণের ভয়ে। এরমধ্যে হামলা ও ভাংচুরের জন্য দায়ী করলে রাহাত ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেয়।

কামাল উদ্দিন জানান, রাহাতের হত্যার হুমকির ঘটনায় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ঢাকা মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে।

তিনি জানান, একই কারনে চলতি মাসের ৫ আগস্ট উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ফেনী মডেল থানায় ৮জনকে অভিযুক্ত করে সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আবদুল জলিল বলেন, সম্পদ দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তিনি জানান, কামালের বাবা সকল জমি বিক্রি করে ঢাকা পাড়ি জমান। মোল্লা বাড়িতে তাদের স্থাবর অস্থাবর কোন সম্পত্তি নেই। তাদের বসতভিটা কামালের পিতা আনোয়ার উল্যাহর কাছে চল্লিশ বছর পূর্বে বিক্রি করেছেন।

হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। হাজেরা বেগমের লাশ দাফন করতে না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি গ্রামবাসীর বিষয় তবে তাদের কবরস্থান না থাকায় অনেকে দাফনে আপত্তি জানিয়েছিল।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা নুর হোসেন সোহাগও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবী করছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ের সাথে আমার কোন সম্পর্কই নেই। কে কখন উত্থাপন করছে তাও আমি জানিনা।

সোহাগ জানান, তবে তার বোনের লাশ দাফনের বিষয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি ছিল। আমাদের ইচ্ছা থাকলেও কবরস্থানে তাদের কোন অংশ না থাকায় এলাকাবাসী রাজি হয়নি।

চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল দৈনিক ফেনীডটকমএ 'ফেনীতে করোনা ভেবে দাফনে বাধা' শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে সম্রাট জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন শুনে মানুষ খুব ভয় পেয়েছে। এছাড়াও তারা ত্রিশ বছর পূর্বে বাড়ি ছেড়ে বান্দেরজলা গ্রামে চলে গেছে। এটি তার বাবার বাড়ি। নিয়মমতে তার দাফন হবে শশুর বাড়িতে। জমির বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কারণে মানুষ লাশ দাফনে বাধা দেয়ার কথা আমার জানা নেই।

কই সংবাদে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, মৃত মহিলার পৈত্রিক বাড়ি দক্ষিণ আবুপুর মোল্লাবাড়ি। তারা অনেক বছর পূর্বে ঢাকা চলে গেছে। স্থানীয় জনগন করোনা আক্রান্ত ভেবে এবং পৈত্রিক এলাকায় মাটি দেয়ার প্রয়োজন নেই বলে বাধা দেয়।

লাশবাহী গাড়িতে হামলা এবং ফোনে হুমকি প্রদানের বিষয়ে আবু সাইদ রাহাতের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।